ভন্ডামী

  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক হলের একটা রুমে সাধারণত ১০/১২ জন করে সদস্য বাস করেন। সদস্যদের মধ্যে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে শুরু করে মাস্টার্স শেষ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা থাকেন। আসুন এরকমই একটা রুম পর্যবেক্ষণ করা যাক: ধরুন আপনি রুমের একজন সিনিয়র সদস্য। আপনি বেশিরভাগ সময় স্মার্টফোনে ফেসবুক এবং ইউটিউবে বিনোদন নিতে ব্যস্ত। আবার আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ওয়াক্ত মত। আপনি ভাসা ভাসা ধর্ম জ্ঞান নিয়ে ধর্ম বিষয়ক আলোচনায় ঝড় তোলেন। আপনি  রাজনীতি সম্পর্কে জানেন খুবই কম। মানে ফেসবুক কিংবা ইউটিউব এর বদৌলতে দেখে যতটুকু জানা যায় তার বেশি জানেন না। দু-একটা বই পড়েছেন কিনা তাও সন্দেহ। কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনায় গ্রামের চায়ের দোকানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও আপনার কাছে হার মানবে। এবার আসি আরেকটা পরিস্থিতিতে।

প্রতিবছরই রুমে দুই/তিন জন করে নতুন সদস্যকে শিফট করা হয়। নতুন সদস্যরা রুমে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই তাদেরকে নিয়ে রুমের বাকি সদস্যরা একটা ঘরোয়া মিটিং করে থাকে। মিটিং এর উদ্দেশ্য নতুন সদস্যরা যাতে রুমে প্রচলিত কিছু নিয়মকানুন মেনে চলে এবং তাদের সমস্যার কথাগুলো অন্যদের জানাতে পারে। এরকম একটি মিটিংয়ে সাধারণত দেখা যায় রুমের যারা পান্ডা মানে সিনিয়র সদস্য তারা নতুন সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেশ মূলক নীতিকথা  বলে থাকেন। যেমন: এখন থেকে তোমাদের সবচেয়ে আপন আমরা, তোমাদের যে কোন সমস্যায় আমরা তোমাদের পাশে থাকবো, অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাব, আর্থিক সংকটে পাশে দাঁড়াবো ইত্যাদি ইত্যাদি। সিনিয়রদের দেখা দেখি বাকিরাও এরকমই কিছু কথা বলে থাকেন।

কিন্তু যখন নতুন সদস্যরা তাদের সমস্যার কথাগুলো একে একে বলতে থাকেন তখন একটু আগে ফাঁকা বুলি আওড়ানো সিনিয়রদের মুখ চিমসে যায়। কেন? কারণ নতুন সদস্যরা বলছে যে তাদের কাপড় রাখার জায়গা নাই, বই রাখার জায়গা নাই। একটু আগে যেই সিনিয়ারেরা তাদের আশ্বাসের বাণী দিয়ে মুখে গেজা তুলে ফেলেছিলেন, তারা এখন বোবা হয়ে গেছে। কারণ এখন তাদের স্বার্থে টান পড়ে গেছে। অন্যকে তিল মাত্র জায়গায় ছেড়ে দিলে তার কম পড়ে যাবে।

এগুলো কী আসলে? সবচাইতে বড় ভন্ডামী নয় কি? যারা মুখে বলে এক আর করে আরেক তাদের চাইতে বড় ভন্ড পৃথিবীতে নাই।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারানের নাতজামাই গল্পের শিল্পমূল্য

আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও