পোস্টগুলি

বাজী

 রাশিয়ান নাট্যকার ও ছোট গল্পকার আন্তন চেখভের বাজী গল্পটি জীবনের গভীর সত্য সন্ধানের এক অনবদ্য সৃষ্টি। নানা জনে জীবনকে নানাভাবে দেখে। 

আমি কে আসলে

 আমি জানি আমি কতটা পাপী। কিন্তু আমি কারো বড় ভাই, কারো আদরের ছেলে। কেউ আমাকে পথে দেখা হলে সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে। কেউ আমার কাছে কোনো ব্যাপারে পরামর্শ চায়। কেউবা আমাকে আদর্শ ব্যক্তি ভেবে অনুসরণ করে। আমি চাই বা না চাই ঘটনা কিন্তু সত্য। এখন আমার কী করা উচিত? আমি কি আমার ইচ্ছা মতো মন যা চায় তাই করতে পারি, নাকি আমার উচিত হবে লোকমনে সৃষ্টি হওয়া আমার বিমূর্ত সত্তার সাথে নিজের জৈবিক সত্তার সমন্বয় করে চলা। এর মানে কি এই যে একটা মধ্য পন্থা অবলম্বন করতে হবে? মানে ভালো খারাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলা। এখানে আমার বিমূর্ত সত্তাকে ভালো আর আমার জৈবিক বা মূর্ত সত্তাকে খারাপ ধরেই কথা বলছি। কারণ আমি তো জানি, আমার মূর্ত সত্তা কতটা খারাপ। সে আমি না চাইলেও বেশিরভাগ সময়ই খারাপ চিন্তা করে। সে সুযোগ পেলেই কখনো ধর্ষকামী হয়ে ওঠে, কখনো কারো প্রতি ঘৃণা এবং হিংসার বিষাক্ত মনোভাব লালন করে। কিন্তু আমি,যে সমাজে নিজের ইমেজ বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করি, সে এই সব খারাপ চিন্তা অনবরত দমন করতে থাকি। কখনো বা ব্যর্থ হই। তখন লোকে মোহভঙ্গ হয় আমার ব্যাপারে।  তাহলে দেখা যাচ্ছে আমার জৈবিক সত্তা আমাকে ডোব...

ভন্ডামী

  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক হলের একটা রুমে সাধারণত ১০/১২ জন করে সদস্য বাস করেন। সদস্যদের মধ্যে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে শুরু করে মাস্টার্স শেষ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা থাকেন। আসুন এরকমই একটা রুম পর্যবেক্ষণ করা যাক: ধরুন আপনি রুমের একজন সিনিয়র সদস্য। আপনি বেশিরভাগ সময় স্মার্টফোনে ফেসবুক এবং ইউটিউবে বিনোদন নিতে ব্যস্ত। আবার আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ওয়াক্ত মত। আপনি ভাসা ভাসা ধর্ম জ্ঞান নিয়ে ধর্ম বিষয়ক আলোচনায় ঝড় তোলেন। আপনি  রাজনীতি সম্পর্কে জানেন খুবই কম। মানে ফেসবুক কিংবা ইউটিউব এর বদৌলতে দেখে যতটুকু জানা যায় তার বেশি জানেন না। দু-একটা বই পড়েছেন কিনা তাও সন্দেহ। কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনায় গ্রামের চায়ের দোকানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও আপনার কাছে হার মানবে। এবার আসি আরেকটা পরিস্থিতিতে। প্রতিবছরই রুমে দুই/তিন জন করে নতুন সদস্যকে শিফট করা হয়। নতুন সদস্যরা রুমে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই তাদেরকে নিয়ে রুমের বাকি সদস্যরা একটা ঘরোয়া মিটিং করে থাকে। মিটিং এর উদ্দেশ্য নতুন সদস্যরা যাতে রুমে প্রচলিত কিছু নিয়মকানুন মেনে চলে এবং তাদের সমস্যার কথাগুলো অন্যদের জানাতে পারে। এর...

আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও

 গুরুজনেরা বলে থাকেন আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও। কিন্তু আমার মনে হয় অপরকে শিখানোটাও ঠিক হবে না। আমরা বরং নিজের ধর্মটা পালন করে যেতে পারি। অপরে আমাদের দেখে শিখবে কি না-শিখবে সেটা সম্পূর্ণ তাদের উপরে ছেড়ে দেওয়া উচিত।  আমার এক শিক্ষক বলেন যে, ব্যক্তি কে? ব্যক্তি আমার কাছে একজন তুচ্ছ। ব্যক্তিকে দেখে মুগ্ধ হওয়া কিংবা তার গুনগান করে তার পুজো করার মধ্যে বড় ধরনের ফাঁকি আছে। কারণ ব্যক্তি দোষে গুণে ভরা একজন মানুষ। বরং ব্যক্তির মধ্যে গুণের চাইতে দোষের অনুপাতটাই বেশি। তাই ব্যক্তির ভালো ভালো কথা শুনে তাকে পয়গম্বর টাইপ কিছু ভেবে নেয়া মধ্যে বড় ধরনের ফাঁকি আছে।  যেমন ধরুন একজন ব্যক্তি আপনাকে ভালো ভালো উপদেশ দিচ্ছেন। শুনে আপনার মনে হচ্ছে যে সে তো ভালো কথাই বলছেন। কিন্তু আপনি জানেন না যে উপদেশদাতা কথাগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলছেন নাকি, পরার্থপর হয়ে বলছেন। ধরুন তার কোন উদ্দেশ্য নাই। কিন্তু টেরি ইগলটন নামক তাত্ত্বিক বলবেন যে ওই ব্যক্তি হয়তো নিজেই জানে না যে সে কোন না কোন চিন্তাধারা প্রভাবিত হয়ে সেই আদর্শ কিংবা মতাদর্শের প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। তাই ব্যক্তির উপদেশ নিঃসন্দেহে গ্রহণ করা ব...

আত্মঘাতী আমি

 ম্যাচ্যিউরড মানুষদেরকে কথা কম বলতে দেখি। যেটুকু বলেন মেপে বলেন। আকাজের কথা বলেন না। এখন আমি পড়েছি উভয় সংকটে। আমি নিজের মধ্যে ম্যাচিউরিটি আনতে চেষ্টা করি। কারণ আমি ওই মূল্যবান জিনিসের অভাব অনুভব করি নিজের মধ্যে। আর এই চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি যে আমার কথা বলাই প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। চেষ্টা করি কথা কম বলার। কিন্তু যখন এই নিয়ম ভুলে যাই, আবেগের প্রবল বেগে তখন তরতর করে কথা বলে যাই। নিজের অজান্তেই কিছু অর্থহীন এবং আত্মঘাতী কথা বলে ফেলি। ফলে নিজের কথার ভুলে অনেক সময় ফাঁদে পড়ে যাই।   

পুতুল নাচের ইতিকথা র পুতুল কে বা কারা

 পুতুল নাচের ইতিকথা বাংলা সাহিত্যের উপন্যাসের ধারায় এক অনন্য সৃষ্টি। জীবনের নাট্যশালায় মানুষ রুপি পুতুলগুলো কিসের ইশারায় বা কার ইশারায় বা তত্ত্বাবধানে নড়েচড়ে তার ইতিকথা খুঁজে পাই আমরা এই উপন্যাসে।

হারানের নাতজামাই গল্পের শিল্পমূল্য

 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প 'হারানের নাতজামাই', নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অমূল্য সৃষ্টি। গল্পটি শিল্প মূল্যে যেমন পরিপুষ্ট তেমনি এর সামাজিক এবং রাজনৈতিক আবেদন সকল ধরনের পাঠকের কাছে আবেদন সৃষ্টি করে। প্রথমেই বলতে হয় গল্পটির নামকরণের সার্থকতা নিয়ে। আসলে হারানের নাজামাই কে? মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য তার  পরিমিতিবোধ। তিনি যা বলতে চান তা মুখ দিয়ে বলেন না। অধ্যাপক এবং গবেষক মোঃ আজম মানিকের এই প্রবণতাকে বলেছেন মানিক দেখাতে চান। মানিকের সাহিত্যে পড়ার সময় আমার এটাই মনে হয় যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন কিছু বলে বোঝানো টাকে বাহুল্য মনে করেন। তিনি ধরে নেন পাঠকের দৃষ্টি থাকলে থাকলে পাঠক অবশ্যই নিজ দায়িত্বে বিষয়টা দেখে নেবে। হারানের নাতজামাই গল্পে আমরা দেখতে পাই মানিক আমাদের দেখাচ্ছেন কে আসল নাত জামাই। কিন্তু একবারও বলেননি। আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না, যে ভুবন মন্ডলই এখানে নাত জামাই হয়ে উঠেছে।  কথাটার একটু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ভুবন মন্ডল গল্পে প্রতীকী জামাই হয়ে উঠেছে।