মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প 'হারানের নাতজামাই', নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অমূল্য সৃষ্টি। গল্পটি শিল্প মূল্যে যেমন পরিপুষ্ট তেমনি এর সামাজিক এবং রাজনৈতিক আবেদন সকল ধরনের পাঠকের কাছে আবেদন সৃষ্টি করে। প্রথমেই বলতে হয় গল্পটির নামকরণের সার্থকতা নিয়ে। আসলে হারানের নাজামাই কে? মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য তার পরিমিতিবোধ। তিনি যা বলতে চান তা মুখ দিয়ে বলেন না। অধ্যাপক এবং গবেষক মোঃ আজম মানিকের এই প্রবণতাকে বলেছেন মানিক দেখাতে চান। মানিকের সাহিত্যে পড়ার সময় আমার এটাই মনে হয় যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন কিছু বলে বোঝানো টাকে বাহুল্য মনে করেন। তিনি ধরে নেন পাঠকের দৃষ্টি থাকলে থাকলে পাঠক অবশ্যই নিজ দায়িত্বে বিষয়টা দেখে নেবে। হারানের নাতজামাই গল্পে আমরা দেখতে পাই মানিক আমাদের দেখাচ্ছেন কে আসল নাত জামাই। কিন্তু একবারও বলেননি। আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না, যে ভুবন মন্ডলই এখানে নাত জামাই হয়ে উঠেছে। কথাটার একটু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ভুবন মন্ডল গল্পে প্রতীকী জামাই হয়ে উঠেছে।
গুরুজনেরা বলে থাকেন আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও। কিন্তু আমার মনে হয় অপরকে শিখানোটাও ঠিক হবে না। আমরা বরং নিজের ধর্মটা পালন করে যেতে পারি। অপরে আমাদের দেখে শিখবে কি না-শিখবে সেটা সম্পূর্ণ তাদের উপরে ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমার এক শিক্ষক বলেন যে, ব্যক্তি কে? ব্যক্তি আমার কাছে একজন তুচ্ছ। ব্যক্তিকে দেখে মুগ্ধ হওয়া কিংবা তার গুনগান করে তার পুজো করার মধ্যে বড় ধরনের ফাঁকি আছে। কারণ ব্যক্তি দোষে গুণে ভরা একজন মানুষ। বরং ব্যক্তির মধ্যে গুণের চাইতে দোষের অনুপাতটাই বেশি। তাই ব্যক্তির ভালো ভালো কথা শুনে তাকে পয়গম্বর টাইপ কিছু ভেবে নেয়া মধ্যে বড় ধরনের ফাঁকি আছে। যেমন ধরুন একজন ব্যক্তি আপনাকে ভালো ভালো উপদেশ দিচ্ছেন। শুনে আপনার মনে হচ্ছে যে সে তো ভালো কথাই বলছেন। কিন্তু আপনি জানেন না যে উপদেশদাতা কথাগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলছেন নাকি, পরার্থপর হয়ে বলছেন। ধরুন তার কোন উদ্দেশ্য নাই। কিন্তু টেরি ইগলটন নামক তাত্ত্বিক বলবেন যে ওই ব্যক্তি হয়তো নিজেই জানে না যে সে কোন না কোন চিন্তাধারা প্রভাবিত হয়ে সেই আদর্শ কিংবা মতাদর্শের প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। তাই ব্যক্তির উপদেশ নিঃসন্দেহে গ্রহণ করা ব...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন