আমি কে আসলে
আমি জানি আমি কতটা পাপী। কিন্তু আমি কারো বড় ভাই, কারো আদরের ছেলে। কেউ আমাকে পথে দেখা হলে সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে। কেউ আমার কাছে কোনো ব্যাপারে পরামর্শ চায়। কেউবা আমাকে আদর্শ ব্যক্তি ভেবে অনুসরণ করে। আমি চাই বা না চাই ঘটনা কিন্তু সত্য।
এখন আমার কী করা উচিত? আমি কি আমার ইচ্ছা মতো মন যা চায় তাই করতে পারি, নাকি আমার উচিত হবে লোকমনে সৃষ্টি হওয়া আমার বিমূর্ত সত্তার সাথে নিজের জৈবিক সত্তার সমন্বয় করে চলা। এর মানে কি এই যে একটা মধ্য পন্থা অবলম্বন করতে হবে? মানে ভালো খারাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলা। এখানে আমার বিমূর্ত সত্তাকে ভালো আর আমার জৈবিক বা মূর্ত সত্তাকে খারাপ ধরেই কথা বলছি।
কারণ আমি তো জানি, আমার মূর্ত সত্তা কতটা খারাপ। সে আমি না চাইলেও বেশিরভাগ সময়ই খারাপ চিন্তা করে। সে সুযোগ পেলেই কখনো ধর্ষকামী হয়ে ওঠে, কখনো কারো প্রতি ঘৃণা এবং হিংসার বিষাক্ত মনোভাব লালন করে। কিন্তু আমি,যে সমাজে নিজের ইমেজ বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করি, সে এই সব খারাপ চিন্তা অনবরত দমন করতে থাকি। কখনো বা ব্যর্থ হই। তখন লোকে মোহভঙ্গ হয় আমার ব্যাপারে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে আমার জৈবিক সত্তা আমাকে ডোবাতেই সদা তৎপর থাকে। তাই আমার কি উচিত নয় আমার বিমূর্ত সত্তাকে আরো উজ্জ্বলভাবে গড়ে তোলা? কারণ তার পরিচয়েই আমার অস্তিত্ব। এটাতো গেল বৈষয়িক দিক। কিন্তু নৈতিক দিক থেকে চিন্তা করলে আমি কি পারি ভণ্ডামী করতে? আমার নৈতিক দায়িত্ব আমার কাছে অস্তিত্ব জানান দেয়। লোকে আমাকে ভালো বলুক বা খারাপ বলুক তাতে আমি চিন্তিত না। কিন্তু আমি নিজের আদালতে যখন নিজের কুকর্ম বিচার করি তখন নিজেকে জগতের সবচেয়ে বড় ভণ্ড এবং প্রতারক মনে হয়।
তখন মনে হয় এই ব্যক্তি কি সে যে গতকাল তার ছোট ভাইটাকে নৈতিক শিক্ষা দিচ্ছিল? এ কি সে যে একজনকে সৎচরিত্রের সংজ্ঞা শোনাচ্ছিল? এ কি সে যে গতকাল এক জুনিয়রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য সম্মান না পেয়ে মনক্ষুণ্ণ হয়েছিল? এ কি সে যে তার সাদাসিধে বাবা মাকে বড় বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছিল? তখন মনে হয় আমি আসলে এক ভণ্ড। যে বাইরে নিজের ভালোরূপী ঠাট বজায় রাখি কিন্তু অন্তরে নিজের সাথে নিজে প্রতারণা করি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন